ভেনেজুয়েলা থেকে ৩৩০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে নিউইয়র্কের আটক কেন্দ্রে মাদুরো


 



ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার ১৫ ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নেয়া হয়েছিল আগেই। পরে তাকে ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (আটক কেন্দ্রে) নিয়ে গেছে। আটকের পর হেলিকপ্টার, যুদ্ধজাহাজ ও একাধিক বিমান বদলের মাধ্যমে তারা ভেনেজুয়েলা থেকে ক্যারিবিয়ান সাগর হয়ে কিউবার গুয়ান্তানামো ঘাঁটি এবং সেখান থেকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্টুয়ার্ট এয়ার ফোর্স বেসে পৌঁছান। এরপর কড়া নিরাপত্তায় হেলিকপ্টারে করে নিউইয়র্ক শহরে এনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কনভয়ে আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো যাত্রায় মাদুরোর অবস্থান ও চলাচল ছিল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও নজরদারিতে।




ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বহনকারী মোটরকেডটি মার্কিন মাদকবিরোধী সংস্থা ডিইএ’র নিউইয়র্ক কার্যালয় ছাড়ার পর ম্যানহাটনের ওয়েস্টসাইড হাইওয়ে হয়ে উত্তর দিকে যায় এবং পরে সেটি আবার হেলিপ্যাডে ফিরে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, এরপরই মাদুরো এবং তার স্ত্রী হেলিকপ্টারে উঠে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারের উদ্দেশে রওনা হন। এরপর তিনটি হেলিকপ্টার হাডসন নদীর ওপর দিয়ে উড়ে নিউইয়র্ক হারবারে স্ট্যাচু অব লিবার্টির পাশ দিয়ে যায়। পরে এগুলো নামার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কনভয়ের মাধ্যমে তাদের ডিটেনশন সেন্টারে নেয়া হয়।



এদিকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে হেলিকপ্টারে করে ম্যানহাটনে আনার পর এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার যানবাহনের কনভয়ের মাধ্যমে তাকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ




মাদুরোকে কীভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে নিউইয়র্কে আনা হলো?

প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ডিইএ সদরদপ্তরে নেয়া ও আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করার সময় এখন তার যাত্রাপথের মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে কীভাবে তাকে আনা হয়েছে। বিবিসি বলছে, স্থানীয় সময় শনিবার ভোররাতে কারাকাস থেকে একটি মার্কিন হেলিকপ্টারে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ক্যারিবিয়ান সাগরের অজ্ঞাত কোনও স্থানে থাকা যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ইও জিমাতে তোলা হয়।



পরে তাকে কিউবার গুয়ান্তানামো বে-তে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র নৌঘাঁটিতে নেয়া হয় এবং সেখানে আরেকটি বিমানে তুলে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অরেঞ্জ কাউন্টির স্টুয়ার্ট এয়ার ফোর্স বেসে আনা হয়। সেখান থেকে আবার হেলিকপ্টারে করে মাদুরোকে নিউইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসা হয়।

মোট হিসাব করলে, আটক হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণ করা পর্যন্ত মাদুরো প্রায় ২ হাজার ১০০ মাইল (৩ হাজার ৩০০ কিলোমিটার) পথ পাড়ি দিয়েছেন।

এর আগে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার ১৫ ঘণ্টা পর প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৫টার দিকে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।



মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি অবতরণের পর সেটির দরজায় মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই এর ইউনিফর্ম পরিহিত কর্মকর্তারা অবস্থান নেন। এরপর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উড়োজাহাজ থেকে বের হয়ে আসেন মাদুরো। কারাকাস থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার ১৫ ঘণ্টা পর তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ছবি প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মাদুরোর একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ছবিতে দেখা যায়, মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস আইও জিম্মায় অবস্থান করছেন।



প্রকাশিত ছবিতে ধূসর রঙের পোশাক পরা মাদুরোকে হাতে একটি পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তার চোখ কালো রঙের আবরণে ঢাকা এবং কানে বড় আকারের হেডফোনের মতো একটি যন্ত্র পরানো রয়েছে। ছবিতে তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে দেখা যায়নি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিচার হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের কাছে ‘অনেক জোরালো প্রমাণ’ রয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, মাদুরোর কর্মকাণ্ড একদিকে ভয়াবহ, অন্যদিকে এতটাই চাঞ্চল্যকর যে তা হতবাক করে দেয়ার মতো।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ