মাদারীপুরের শিবচরে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর এক যুবকের চরম সিদ্ধান্ত ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমিকার মন ফেরাতে ৪৬০ ফুট উঁচু বৈদ্যুতিক টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার হুমকি দেন হাসান শিকদার (২২) নামের ওই যুবক। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
রোববার (৩ মে) সন্ধ্যার পর শিরুয়াইল ইউনিয়নের দফাদারকান্দি এলাকায় প্রেমিকার বাড়ির কাছে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, শিবচর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাসান শিকদারের সঙ্গে তার প্রেমিকার সম্পর্ক সম্প্রতি ভেঙে যায়। বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। এরপর প্রেমিকার দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হাসান স্থানীয় একটি প্রায় ৪৬০ ফুট উঁচু বৈদ্যুতিক টাওয়ারে উঠে পড়েন। সেখান থেকে তিনি প্রেমিকাকে ফোন করে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে অনুরোধ জানান এবং তাকে নিচে আসতে বলেন। অন্যথায় টাওয়ার থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দেন।
বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে প্রথমে হাসানের এক বন্ধু ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া না পেলে শিবচর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নিলখী তদন্ত কেন্দ্রের সদস্য এবং পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
এরপর শুরু হয় দীর্ঘ সময়ের বোঝানোর চেষ্টা। টাওয়ারের নিচে অবস্থান নিয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ফোনের মাধ্যমে হাসানের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও তাকে নিরাপদে নিচে নামার জন্য অনুরোধ জানান। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলা এই প্রচেষ্টার পর অবশেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসানকে রাজি করানো সম্ভব হয়।
শেষ পর্যন্ত তার এক বন্ধুর সহায়তায় হাসান নিরাপদে নিচে নেমে আসেন। পরে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে শিবচর থানায় নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় টাওয়ারের নিচে হাজারো উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। স্থানীয়রা জানান, এমন ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্বস্তি ফিরে আসে।
শিবচর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার তপন কুমার ঘোষ জানান, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য সহকারে বোঝানোর পর তাকে নিরাপদে নিচে নামানো সম্ভব হয়েছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেমের সম্পর্ক ভাঙনের পর অনেক তরুণ-তরুণী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, যা কখনো কখনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে রূপ নেয়। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবার, বন্ধু এবং সমাজের সহানুভূতিশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়—মানসিক চাপ বা সম্পর্কের জটিলতায় চরম সিদ্ধান্ত নয়, বরং সহায়তা নেওয়াই হতে পারে সঠিক পথ।
0 মন্তব্যসমূহ