নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাইকে ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে দুটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজার এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি মিছিলের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মিছিল শেষে নেতাকর্মীরা ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছাত্রদলের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের অনুসারী এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। ছাত্রদলের দাবি, এই ঘোষণার কারণে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার খবর প্রচার হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সমর্থক ও চেয়ারম্যানের অনুসারীরা ঘটনাস্থলে আসেন। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে। একপর্যায়ে ছাত্রদলের দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
সংঘর্ষে শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগসহ অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কয়েকজন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল বলেন, “চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় ছাত্রদলের কর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়। পরে আমরা কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতাকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনি।”
এদিকে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হামলা, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং একটি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা কাজ করছেন এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
0 মন্তব্যসমূহ