কত বছর বয়সে রাজনীতি ছাড়বেন জানালেন ফজলুর রহমান


 কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান সমকালীন রাজনীতি, প্রবীণ রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে মামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ৮৩ বছর বয়সের পর আর রাজনীতি করবেন না এবং জীবনের বাকি সময় ধর্মীয় ও পারিবারিক পরিবেশে কাটাতে চান। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই আলোচনায় আসে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ-এর শারীরিক অবস্থা ও তার বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গ। এ বিষয়ে ফজলুর রহমান বলেন, “২০১৪ সালের পর থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তোফায়েল আহমদ শুধু এমপি ছিলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে ছিলেন না। শেখ হাসিনা সিনিয়র নেতাদের গুরুত্ব দেননি। আমির হোসেন আমু, মোহাম্মদ নাসিম— কাউকেই না।”

তিনি আরও বলেন, “তোফায়েল আহমদের মতো মানুষ এখন প্রায় মৃত্যুশয্যায়। তিনি কিছুই বুঝতে পারেন না। এমন একজন মানুষের নামে ওয়ারেন্ট কেন হবে? আর ওয়ারেন্ট হলে তাকে ধরতেই হবে কেন?” তার মতে, বার্ধক্যে পৌঁছে যাওয়া প্রবীণ রাজনীতিবিদদের প্রতি মানবিক আচরণ করা উচিত।

এ সময় তিনি প্রবীণ বামপন্থি নেতা রাশেদ খান মেনন-এর প্রসঙ্গও টানেন। তিনি বলেন, “৮৫ বছর বয়সী একজন মুক্তিযোদ্ধাকে কেন জেলে থাকতে হবে? রাশেদ খান মেননের মতো লোক রাজনীতিতে কয়জন আছে?” একইভাবে তিনি আমির হোসেন আমু-এর কথাও উল্লেখ করে বলেন, “৮৯ বছর বয়সে একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠককে কেন জেল খাটতে হবে? অপরাধ প্রমাণ হলে বিচার হোক, কিন্তু অন্তত জামিন তো দেওয়া উচিত।”

ফজলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের যেসব প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে কারাগারে আছেন, তারা যে দলেরই হোন না কেন, তাদের মানবিক বিবেচনায় জামিন দেওয়া উচিত। তার ভাষায়, “জামিন তাদের পাওনা।” তিনি মনে করেন, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও খারাপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয়েও কথা বলেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি টেনে তিনি বলেন, “পশ্চিম থেকে একটা বাতাস আসতেছে।” পরে ব্যাখ্যা করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। তিনি Mamata Banerjee-এর দীর্ঘ শাসনামল ও বর্তমান পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে বলেন, “খুব সাবধান হয়ে রাজনীতি করতে হবে। অতিরিক্ত কন্ট্রাডিকশন করে রাজনীতি করা ঠিক হবে না।”

এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina-র সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্টদের শাস্তি হওয়া উচিত— এটা আমি সবসময় বলেছি। কিন্তু এখন বলছি, অন্তত প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধাদের জামিন দেওয়া হোক।”

তিনি সাবেক আইনমন্ত্রী Anisul Huq এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক Obaidul Quader-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার দাবি, ক্ষমতায় থাকাকালে তারা মনে করেছিলেন তাদের ক্ষমতা কখনো শেষ হবে না। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে বাস্তবতা বদলে গেছে।

সবশেষে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেন ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, “আমার এখন বয়স ৭৮ বছর। এই সরকার যদি আরও পাঁচ বছর থাকে, তাহলে আমার বয়স হবে ৮৩। এরপর আমি আর রাজনীতি করব না। আল্লাহ-বিল্লাহ করব। আমি আর জেল খাটতে চাই না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার নাতি-নাতনি থাকবে, তাদের রেখে আমি জেলে থাকতে চাই না। আমি বাংলাদেশে এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি চাই না।” তার এই বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রবীণ নেতাদের ভবিষ্যৎ এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ