পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা, সেই ফোরকানের লাশ মিলল পদ্মায়


 

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া-র লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর এই পাঁচ হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পদ্মা নদী থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেটি পলাতক ফোরকান মিয়ার লাশ হতে পারে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার আগে পুলিশ এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি হয়নি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শরীফ উদ্দিন জানান, পদ্মা সেতুর একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি সেতুর ওপর কিছু সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন। পরে তিনি নদীতে ঝাঁপ দেন। ওই ব্যক্তির সঙ্গে একটি ব্যাগ ও কিছু জামাকাপড় ছিল। পুলিশ সুপার বলেন, “আমরা এখনও শতভাগ নিশ্চিত নই যে তিনি ফোরকান ছিলেন কি না। ডিএনএ টেস্টের পরই মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, পদ্মা সেতুর ওপর থেকে একটি ব্যাগ ও কিছু জামাকাপড় উদ্ধার করেছে Criminal Investigation Department Bangladesh (সিআইডি)। তদন্তে জানা গেছে, সেগুলো ফোরকান মিয়ার হতে পারে। এছাড়া এক ব্যক্তির কাছ থেকে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি পদ্মা সেতুর ওপর মোবাইলটি কুড়িয়ে পেয়েছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, কাপাসিয়ায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর আত্মগোপনে চলে যান ফোরকান। পরে তিনি পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। ঘটনার পর থেকেই তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছিল।

এর আগে গত শুক্রবার (৮ মে) রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া। তাদের সবাইকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে রাউতকোনা গ্রামের ওই বাসার নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে রক্তাক্ত ও ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলাকাটা লাশ। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। আর শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ এবং কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করে। এছাড়া বেশ কিছু প্রিন্ট করা কাগজও উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, এর আগে ফোরকান তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ও উল্লেখ ছিল।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য বিরোধ এবং পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছিল পুলিশ। তবে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই পাঁচ খুনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। একসঙ্গে স্ত্রী, তিন শিশু সন্তান ও শ্যালককে হত্যার ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ